রাজশাহীতে সোলার ইনস্টলেশন
আমাদের অফিস রাজশাহীতে, আমরা রাজশাহীরই। এখানকার রোদ, কুয়াশা আর ধুলা ধরে সিস্টেম বানাই, আর সার্ভিসে নিজেরাই আসি।
রাজশাহীতে আমাদের বসানো সিস্টেম
বিনোদপুরের Radiant হোস্টেলে 48V সিস্টেম চলছে এপ্রিল ২০২৬ থেকে, পুরো গরমকাল পার করেছে। চারঘাটে চলছে আরেকটা 24V সিস্টেম (চারঘাটের পাতা)। ভিডিওতে দেখুন।
৬টি ৬২০W প্যানেল, ৫ kWh লিথিয়াম ব্যাটারি, Growatt ৬ kW ইনভার্টার। এসি, ফ্রিজ, ইনডাকশন চুলা, ১ HP মোটর সব চলে। হোস্টেলের কাজটার বিস্তারিত মেস ও হোস্টেলে সোলার পাতায়; 24V সিস্টেম আর পোর্টেবলের ভিডিও আমাদের কাজ পাতায়।
রাজশাহীর রোদ কেমন
সোলারের হিসাব রোদের ঘণ্টা দিয়ে হয় না, “কাজের রোদ” দিয়ে হয়, যতটুকু সময় প্যানেল তার পুরো ক্ষমতায় কাজ করতে পারে।
| সময় | কাজের রোদ | উৎপাদন |
|---|---|---|
| মার্চ – মে | ৫ ঘণ্টার বেশি | সবচেয়ে ভালো |
| জুন – সেপ্টেম্বর | ৪ ঘণ্টার মতো | মেঘ-বৃষ্টিতে ওঠানামা |
| অক্টোবর – নভেম্বর | ৪.৫ ঘণ্টা | ভালো, আকাশ পরিষ্কার |
| ডিসেম্বর – জানুয়ারি | ৩.২ ঘণ্টা | কুয়াশায় কম |
| সারা বছরের গড় | ৪.২ ঘণ্টা |
মানে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে উৎপাদন বছরের গড়ের চেয়ে বিশ-পঁচিশ শতাংশ কম। এই কথাটা বিক্রির সময় অনেকে বলে না। আমরা বলি, কারণ শীত এলে আপনি এমনিতেই টের পাবেন, তখন জানলে মনে হবে ঠকেছেন।
সিস্টেম সাইজ করার সময় আমরা শীতের হিসাব ধরেই করি, গড় ধরে না। তাতে দাম একটু বাড়ে, কিন্তু জানুয়ারিতেও ঘর চলে।
এখানকার তিনটা জিনিস আলাদা
ধুলা। বরেন্দ্র এলাকার মাটি শুকনো, বাতাসে ধুলা ওড়ে। প্যানেলে ধুলা জমলে উৎপাদন দশ-পনেরো শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এখানে মাসে একবার প্যানেল ধোয়া দরকার, অন্য জেলায় দুই-তিন মাসে একবারেও চলে।
বজ্রপাত। রাজশাহী অঞ্চলে বজ্রপাত হয়, বিশেষ করে কালবৈশাখীর সময়। আর্থিং আর SPD ছাড়া সিস্টেম বসানো এখানে বোকামি। আমরা কোনো সিস্টেম এই দুইটা ছাড়া বসাই না।
গরম। সোলার প্যানেল গরমে ক্ষমতা হারায়। এপ্রিল-মে মাসে রোদ সবচেয়ে বেশি, কিন্তু প্যানেল তেতে থাকে বলে উৎপাদন হিসাবমতো বাড়ে না। তাই স্ট্রাকচারে ছাদ আর প্যানেলের মাঝে ফাঁক রাখতে হয়, যেন বাতাস চলে। এই ছোট জিনিসটা অনেকে করে না।
আমরা যেসব এলাকায় যাই
সদর থেকে দূরত্ব অনুযায়ী।
| এলাকা | দূরত্ব | সার্ভিস কল |
|---|---|---|
| রাজশাহী সদর | অফিস এখানেই | ২৪ ঘণ্টা |
| পবা | ১০ কিমি | ২৪ ঘণ্টা |
| মোহনপুর | ২৫ কিমি | ২৪–৪৮ ঘণ্টা |
| গোদাগাড়ী | ৩০ কিমি | ২৪–৪৮ ঘণ্টা |
| পুঠিয়া | ৩০ কিমি | ২৪–৪৮ ঘণ্টা |
| দুর্গাপুর | ৩৫ কিমি | ২–৩ দিন |
| চারঘাট | ৩৫ কিমি | ২–৩ দিন |
| তানোর | ৪০ কিমি | ২–৩ দিন |
| বাগমারা | ৪৫ কিমি | ২–৩ দিন |
| বাঘা | ৫০ কিমি | ২–৩ দিন |
নাটোর, বগুড়া, পাবনাসহ আশপাশের জেলাতেও কাজ করি। দূরত্ব অনুযায়ী সার্ভিসে কত সময় লাগবে, কাজের আগেই জানিয়ে দিই।
সোলার সেচ পাম্প
বরেন্দ্র এলাকায় সেচের খরচ কৃষকের সবচেয়ে বড় খরচ, আর ডিজেলের দাম প্রতি বছর বাড়ছে। সোলার সেচ পাম্প এখানে সত্যিই কাজের জিনিস, একবার বসালে জ্বালানির খরচ প্রায় শূন্য।
সেচ পাম্পের কাজ আমরা করি আমাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে। সেচ পাম্প তাদের বিশেষ কাজ, এই কাজে তাদের অভিজ্ঞতা অনেক বছরের। আমরা একে অন্যকে সাহায্য করি, যাতে প্রতিটা কাজ সবচেয়ে অভিজ্ঞ হাতে হয়।
সেচের জন্য সোলার চাইলে আমাদের ফোন করুন। কত বিঘা জমি, পানির স্তর কত নিচে, কোন মৌসুমে দিনে কত ঘণ্টা পাম্প চলে, এইটুকু জানালে অংশীদারের সাথে মিলে হিসাব করে দেব। যোগাযোগ আর দেখাশোনা আমাদের সাথেই।
অফিস ও যোগাযোগ
ফোন করার আগে কী জেনে আসবেন, যোগাযোগ পাতায়।
রাজশাহী নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
রাজশাহী শহরের বাইরে কোন উপজেলায় যান?
সদর, পবা, মোহনপুর, গোদাগাড়ী, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, চারঘাট, তানোর, বাগমারা, বাঘা। উপরের তালিকায় দূরত্ব অনুযায়ী সার্ভিসে কত সময় লাগে তা লেখা আছে।
রাজশাহীর ধুলায় প্যানেল কতদিন পরপর পরিষ্কার করতে হয়?
বরেন্দ্র এলাকার ধুলায় মাসে একবার ধোয়া দরকার। প্রথম বছরের নির্ধারিত ভিজিটে আমরা পরিষ্কার করে দিই, আর ইনস্টলের দিন নিজে কীভাবে ধোবেন শিখিয়ে দিই।
শীতের কুয়াশায় রাজশাহীতে সোলার চলে?
চলে, তবে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে উৎপাদন প্রায় এক চতুর্থাংশ কমে। আমরা সিস্টেম সাইজ করার সময় শীতের হিসাব ধরেই করি, গড় ধরে না।
রাজশাহীতে বজ্রপাতে সোলারের ক্ষতি হয়?
হতে পারে, তাই প্রতিটা সিস্টেমে আর্থিং আর সার্জ প্রোটেকশন (SPD) দিই। এই দুইটা ছাড়া কোনো সিস্টেম বসাই না।