বিল দেখে হিসাব করুন
মাসে কত টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে বসান। কোন প্যাকেজ লাগবে, বিল কত নামবে আর কত বছরে টাকা উঠবে — রাজশাহীর রোদের হিসাবে বলে দিচ্ছি।
এই হিসাবটা কীভাবে করা
লুকানোর কিছু নেই, তাই খুলেই বলি।
রোদ: রাজশাহীতে বছরে গড়ে দিনে ৪.২ ঘণ্টার মতো কাজের রোদ পাওয়া যায়। ডিসেম্বর-জানুয়ারির কুয়াশায় সেটা ৩.২ ঘণ্টায় নামে।
লস: প্যানেলের গায়ে যা লেখা তার পুরোটা কখনো পাওয়া যায় না। ধুলা, গরম, ক্যাবল আর ইনভার্টার মিলিয়ে প্রায় ২২% বাদ যায়। আমরা সেটা ধরে হিসাব করি।
স্ল্যাব: বিদ্যুতের দাম ধাপে ধাপে বাড়ে। সোলার সবার আগে উপরের ধাপের ইউনিট কাটে, যেগুলো সবচেয়ে দামি। তাই বিল যত বেশি, সাশ্রয়ের হার তত ভালো।
যা ধরিনি: বিদ্যুতের দাম প্রতি বছর বাড়ে, সেটা ধরিনি — ধরলে হিসাব আরও ভালো আসত। আর আট-দশ বছর পর ব্যাটারি একবার বদলাতে হবে, সেটাও ধরিনি।
সংখ্যাটা কম মনে হচ্ছে?
অনেক জায়গায় দেখবেন তিন-চার বছরে টাকা ওঠার কথা লেখা। ওই হিসাবগুলো সাধারণত দুইটা জিনিস বাদ দেয় — ব্যাটারির দাম, আর ব্যাটারি বদলানোর খরচ।
আমাদের প্যাকেজগুলোয় দামের একটা বড় অংশ ব্যাটারিতে যায়, কারণ ব্যাটারিই লোডশেডিংয়ে ঘর জ্বালিয়ে রাখে। ব্যাটারি বিদ্যুৎ বানায় না, জমা রাখে — তাই ওটা বিল কমায় না, ভোগান্তি কমায়।
শুধু বিল কমানোই যদি আপনার লক্ষ্য হয়, তাহলে ব্যাটারি কম আর প্যানেল বেশি নিয়ে সিস্টেম বানানো যায়। খরচ কম পড়বে, টাকাও তাড়াতাড়ি উঠবে, কিন্তু কারেন্ট গেলে ঘর অন্ধকার থাকবে। কোনটা চান, সেটা বলুন — সেভাবেই বানিয়ে দেব।